প্রাক্তন প্রেমিকের এর ঋণ কিভাবে শোধ করা যায়?
আমি কিছু দিন ধরে প্রচন্ড আত্নগ্লানিতে ভুগছি।অনেক কষ্টে আছি।
নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বেঈমান নারী
বলে মনে হচ্ছে।
আমি রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতাম। সে তখন রুয়েটে পড়াশোনা করত। সেই সময় রুয়েট রাজশাহী বিআইটি নামে পরিচিত ছিল। ২০০১ সালে আমাদের প্রথম সম্পর্ক শুরু হয়।
সম্পর্কে যাবার পরে সে আর আমাকে টিউশনি করতে দেয় নাই রেজাল্ট খারাপ হবে বলে। সে নিজে টিউশনি করে একটা ভাল আয় করত। আমাকে সে মাসে ১৫০০-২০০০ টাকা করে দিত । সেই সময়ে ১৫০০ টাকা অনেক মূল্য ছিল। গরুর মাংশের কেজি ছিল ৭০ টাকা সেই সময়ে। তার অর্থতেই আমি অনার্স পড়া শেষ করি।
এরপর আমি বাড়ি চলে যাই। আর সে আমেরিকা যাবে বলে ঢাকায় চলে যায়। গ্রামের একটা হাইস্কুলে আমি শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ পাবার চেষ্টা করি কিন্ত কমিটি ৫০ হাজার চায়। আমার বাবা ৩৫ হাজার টাকা ম্যানেজ করে দেয়। বাকি ১৫০০০ টাকা সে দিয়েছিল, তার সখের ক্যামেরাটি বিক্রি করে।
আমাদের সম্পর্কটা ছিল স্বামী স্ত্রীর মত অতি ঘনিষ্ঠ অন্তরঙ্গ। কখনো কল্পনা করে নাই যে আমি তাকে ভিন্ন অন্য কাওকে বিয়ে করব। কিন্ত ভাগ্য ছিল অন্যরকম। আমার পরিবার খুবই রাগী এবং এক কথার মানুষ । আমাকে না জানিয়েই আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। এরপর হঠাৎ করে একদিন সন্ধ্যায় এসে পাত্রপক্ষ আমাকে আংটি পড়িয়ে যায়। গ্রামের সমাজে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হবার পরে মেয়ে পালিয়ে গেলে পরিবারের সন্মান নষ্ট হয়। আমি যদি সেদিন তার কাছে পালিয়ে যেতাম তবে আমার ছোট বোনদের কেও আর বিয়ে করত না। পরিবারের সন্মান রক্ষায় আমি ভালবাসাকে কবর দিয়ে বাবা মায়ের ইচ্ছায় বিয়ে করে নেই।
সে এই ঘটনা জানতে পেরে সুইসাইড এটেম্পট নিয়েছিল। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে বেচে যায়। এরপর সে আমেরিকা চলে যায় জিআরই এক্সামে দিয়ে। এরপর লম্বা ১৫ বছর আমি আর তার কোন খোজ রাখে নাই। খোজ রাখার মত মুখ আমার ছিল না।
গত বছর আমার ছোট মেয়ের হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে এবং ভারত নিয়ে যাবার দরকার হয় হার্টে অপরেশন করার জন্য। সেই সময়ে আমি ও আমার স্বামী অর্থনৈতিক ভাবে অনেক টানাপোড়নের মধ্যে পড়ি। এরমধ্যে একদিন দেখি যে কে যেন আমার ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্টে আড়াই লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে। খোজ নিয়ে জানতে পারি যে তিনি হলেন আমার এক্সের রুমমেট। তার রুয়েটের রুমমেট বাসা আমাদের এলাকায় হওয়ায়, তার মাধ্যমে আমার মেয়ের কথা জানতে পেরে টাকা পাঠিয়েছে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার যোগাড় করে ।
বহু বছর পরে যখন তার সাথে কথা হল তখন সে শুধু বলল , " এরকম একটা মেয়ের স্বপ্ন তো আমরা দেখতাম। ভাগ্যে নাই , তাই হই নাই। তোমার মেয়ে আমার কাছেও মেয়ের মতই।"
আমি শুধু কেদেছি। একজন মানুষ কিভাবে এত ভাল হয়? কিভাবে এতটা ভালবাসে? কিভাবে এত বড় বেঈমানীর পরেও ক্ষমা করে দেয়? আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তার স্ত্রীর সম্পর্কে। সে শুধু বলল, " আমার স্ত্রী অনেক ভাল মেয়ে কিন্ত আমি তাকে ভালবাসতে পারি নাই। তার সাথে সংসার রুটিন ওয়ার্কের মত। এক মনে দুজনকে ভালবাসা যায় না"
সত্য বলতে আমিও আমার স্বামীকে একটুও ভালবাসতে পারি নাই যদিও আমার স্বামী খুবই ভাল মানুষ। আসলে প্রথম ভালবাসার পরে জীবনে বিয়ের মাধ্যমে অন্য যারা আসে তাদের সাথে সম্পর্কটা রুটিন ওয়ার্কের মতই হয়। আজকে ৪ টা জীবন একটা ভুল সিদ্ধান্তে বলি হচ্ছে।
সে আমার কাছে অর্থ বিচারে হয়ত ৬-৭ লক্ষ টাকা পাবে সব মিলিয়ে। এই টাকা সে কখনো নিবে না। আর এই টাকা ফেরত দিলেও তার ঋণ শোধ হবে না। আমার বিবেক আমাকে প্রতি ক্ষণে হ/ত্যা করছে। মুক্তির উপায় কি কেউ বলবেন প্লিজ ?
ডিভোর্সি নাকি বিধবা
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করতে চাইলে আগে কমছে কম এক কোটি বার ভাবুন।
এ যুগের ৯০% ডিভোর্সি নারীদের অবস্থাই সেক্যুলার/নারীবাদী/ভুস্কি মানসিকতার,এদের বিয়ে করা আর খাল কেটে কুমির ডেকে আনা একই কথা।
মুহাম্মদ সাঃ এর ১১জন স্ত্রীর মধ্যে ৯জন ই বিয়ের সময় বিধবা ছিলেন।
এ যুগের ৯০% ডিভোর্সি নারীদের অবস্থাই সেক্যুলার/নারীবাদী/ভুস্কি মানসিকতার,এদের বিয়ে করা আর খাল কেটে কুমির ডেকে আনা একই কথা।
মুহাম্মদ সাঃ এর ১১জন স্ত্রীর মধ্যে ৯জন ই বিয়ের সময় বিধবা ছিলেন।
"পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না... কারণ পুরুষের চোখে জল মানায় না... জন্মের পর তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় যতো কষ্টই হোক তোমার চোখে জল আনা যাবে না !!
.
নারীরা হুটহাট কেঁদে উঠতে পারে... নারীরা রাগে কাঁদে, অভিমানে কাঁদে, কষ্টেও কাঁদে... কিন্তু পুরুষ কখনো অভিমান কিংবা রাগে কাঁদে না... নারীর চোখের জলে ছলনা থাকলেও পুরুষের চোখের জলে কোনো ছলনা নেই !!
.
তবুও যদি কোনো পুরুষ কাঁদে তবে বুঝতে হবে সে বড় কষ্টটাই পেয়েছে এবং সে আসলেই কাঁদতেছে... পুরুষ কান্নার অভিনয় করতে পারে না... পুরুষের কান্নার দৃশ্য ভয়াবহ... পুরুষের কান্নার কারণ তীব্রতর হয় !!
.
তবুও পুরুষেরা কাঁদে... পুরুষ কাঁদে চারদেয়ালের আড়ালে... পুরুষ কাঁদে বারবার ইন্টার্ভিউ বোর্ডে ব্যর্থ হয়ে সার্টিফিকেটের দিকে তাকিয়ে... পুরুষেরা কাঁদে সংসারের চাহিদা না মেটাতে পেরে... পুরুষেরা কাঁদে বাবা-মায়ের চাহিদা পূরণ করতে না পেরে... পুরুষেরা কাঁদে প্রেমিকা হারালে !!
.
পুরুষ মানুষ নিজের জন্য যতটা না কেঁদেছে তার চেয়েও বেশি কেঁদেছে অন্য কারোর মন রক্ষার জন্য... পরিবার, বাবা মা, ছেলেমেয়ে কিংবা প্রেমিকার আবদার পূরণ করার জন্যও পুরুষের চোখের জল মাটিতে ফেলতে হয় যা অনেক প্রেমিকাই জানেনা !!
.
ইতিহাস বলে যে নারী ইচ্ছাকৃতভাবে পুরুষের চোখের জলের কারণ হয়েছে সেই নারী জীবনে খুব একটা সুখী হতে পারেনি... এটা নয় কোনো পুরুষের অভিসাপ, এটা পুরুষের চোখের জলের কারণ আর দীর্ঘশ্বাস !!
.
নারীরা বেঁচে থাকে বাবা কিংবা স্বামীর উপর ভরসা করে... আর সেই নারীর জন্যই যদি কোনো পুরুষের কাঁদতে হয় তাহলে সেটা সেই নারীর জন্যই অমঙ্গল... পুরুষের চোখের জল বিফলে যায় না, প্রকৃতিই তার প্রতিদান দেয় !!
.
তবুও পুরুষেরা বীর... দিনশেষে একটা পরিবার, বাবা মা কিংবা একটা নারীর বেঁচে থাকার শক্তি... পুরুষকে কাঁদিয়ে যে নারী জীবনে বড় হতে চেয়েছে তার সারাজীবন ভাঙতে ভাঙতে গেছে... কারণ একটা নারীর জীবনে স্রষ্টার পরেই একজন পুরুষের স্থান !!"
© মিজানুর রহমান শ্রাবণ
.
Subscribe to:
Posts (Atom)
বাসরঘরে তালাক দশম শ্রেনির মাদরাসার ছাত্রীর স্ত্রী হিসেবে মহিলা মাদ্রাসা আর জেনারেল বলতে কিছু নেই, যার মধ্যে দ্বীনদার বুঝদার ও সাথে সাথে তা...
-
প্রাক্তন প্রেমিকের এর ঋণ কিভাবে শোধ করা যায়? আমি কিছু দিন ধরে প্রচন্ড আত্নগ্লানিতে ভুগছি।অনেক কষ্টে আছি। নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বেঈমান না...
-
পুরুষের জীবন অর্থবহ করার ১০ উপায় মধ্য ত্রিশে থাকা পুরুষের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে এমন ১০টি কাজের তালিকা— ১। পরিবারসংশ্লিষ্টতা : কৈশোরে...
-
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করতে চাইলে আগে কমছে কম এক কোটি বার ভাবুন। এ যুগের ৯০% ডিভোর্সি নারীদের অবস্থাই সেক্যুলার/নারীবাদী/ভুস্কি মানসিকতার,এদে...

