স্ত্রীরা খারাপ হলে মানুষ বিয়ে কেন করে 🤔
প্রায়ই বিবাহিত মানুষ বলে, আমরা বিয়ে করে ফেঁসে গেছি, তুমি ফেঁসো না। স্ত্রী খারাপ হয়, অযথা হয়। স্বামীকে সন্দেহ করে, সব ব্যাপারে বাধা দেয়, প্রতিবেশীর সঙ্গেও কথা বলতে দেয় না। যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে বাকিরা কেন বিয়ে করে?
স্ত্রী খারাপ হয়, এটা জানার পরও। অনেক লোক স্ত্রীর তুলনা মিষ্টির সাথে করে, খাও তো ভুল, না খাও তো ভুল। বলে, যারা খায় তারা পস্তায়, যারা না খায় তারা-ও পস্তায়। স্ত্রীর তুলনা মিষ্টির সাথে, বোকা কোথাকার! হয়তো তাদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই যে এই স্ত্রী আসলে কি!
স্ত্রীর গুরুত্ব কি? স্ত্রী ছাড়া কি আপনার সংসার আছে? একটি মেয়ে, একটি কন্যা, তার নিজের ঘর ছেড়ে এসে আপনার ঘরে আপনার স্ত্রী, বাড়ির বউ হয়ে আসে, এবং আপনি তাকে খারাপ বলেন? সে আপনার পুরো বাড়ি সামলায়, আপনার সবকিছুর যত্ন নেয়, সবকিছু ভুল জায়গা থেকে তুলে ঠিক জায়গায় রাখে। পুরো জীবন আপনার নামে উৎসর্গ করে। আপনাকে মেয়ে/ছেলের উপহার দিয়ে আপনার ঘর আলো করে তোলে। আপনাকে খারাপ কাজ করা থেকে আটকায়। আপনি একা থাকলে, সে আপনাকে স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, বোন, ভাসুর, মায়ের মতো ভালোবাসা দেয়। আপনার বেতন কম হলেও সে কোনো অভিযোগ করে না। আপনার খারাপ সময়ে, দুঃখে, কষ্টে পাশে থাকে। আপনি অসুস্থ হলে আপনাকে সন্তানের থেকেও বেশি ভালোবাসা দেয়। আপনার পুরো পরিবার, ঘর সামলায়। তবুও অনেক নির্লজ্জ লোক বলে স্ত্রী খারাপ হয়, ভুল হয়, বাধা দেয়।
আরে, আপনি যদি ভুল কাজ করেন, সে আপনাকে আটকাবে না তো কি করবে? এতে খারাপ কি? এতে লাভ কার? আপনারই তো, তাই না? তাহলে স্ত্রী খারাপ বা ভুল কেন? স্ত্রী কোনো মিষ্টি নয়, সে ঈশ্বরের অমূল্য দান, যা কপালীদেরই মেলে।
আপনি যদি বিবাহিত হন, তাহলে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবুন, ভাগ্যবান ভাবুন যে কেউ তো আপনার যত্ন করছে, কেউ তো আপনার পাশে আছে। অন্যথায় আপনার মা-বাবার পর আপনাকে কে দেখবে? ভাই, হিসাব করুন, কতটা পরিবারের ভাই আজকাল একসঙ্গে থাকে? আপনার বোন, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে। স্ত্রী না থাকলে, একা একা থাকবেন, পাগল হয়ে যাবেন। নিজের চুল ছিঁড়তে শুরু করবেন। অসুস্থ হবেন, বিছানায় পড়ে থাকবেন, কেউ আপনাকে দেখবে না।
তাই সবসময় স্ত্রীর সম্মান করুন, স্ত্রীকে সব সুখ দিন। স্ত্রী খারাপ নয়, খুবই সরল, আপনার সহযাত্রী, আপনার জীবনসঙ্গী, আপনার দুঃখ-সুখের সঙ্গী। আশা করি বিবাহিতরা নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করবেন, এবং তাদের স্ত্রীর সাথে কখনোই খারাপ আচরণ করবেন না। স্ত্রীকে মিষ্টি বলবেন না, কারণ স্ত্রী ছাড়া আপনার কোনো ঘর নেই, সংসার নেই। আর আপনি স্ত্রীর সাথ ছাড়া কিছুই নন!
picture by #Ai
written by #Nilima
presented by #NilimarGolpo
যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছ, তার কাছে আবার কিসের ব্যক্তিত্ব?
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে কখন পাগলের মত ভালোবাসে জানেন?
এক বৃদ্ধা মহিলার সাক্ষাৎকার। যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর। তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিল। ঝগড়া তো দুরের কথা, দাম্পত্য জীবনে কখনো কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি।
একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতার রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।
.
কী ছিল সে রহস্য? মজার মজার খাবার বানানো? দৈহিক সৌন্দর্য? বেশী সন্তান জন্ম দেয়া? নাকি অন্যকিছু?
বৃদ্ধা বললেন, দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছা অতপর স্ত্রীর হাতেই। একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন আবার চাইলে এটাকে জাহান্নামেও পরিনত করতে পারেন।
.
কীভাবে? অর্থ দিয়ে? তা তো হতে পারে না। কেননা অনেক অর্থশালী মহিলা আছেন, যাদের জীবনে দুঃখ দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চান না।
.
সন্তান জন্ম দান? না, তাও নয়। কারণ, অনেক মহিলা আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে, অথচ স্বামী পছন্দ করেননা। এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজিরও কম নয়।
.
ভালো খাবার বানানো? এটাও না, কারণ অনেক মহিলা আছেন, যারা রান্না বান্নায় বেশ দক্ষ, সারা দিন রান্না ঘরে কাজ করে, অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।
.
তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন। বললেন, তাহলে আসল রহস্যটা কী?
বৃদ্ধা বললেন, যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম এবং অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতিটি কথায় সায় দিতাম।
সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনো চুপ হয়ে থেকো না, কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকে, এটা সহজেই বুঝতে পারে।
.
সাংবাদিক: ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যান না কেন?
বৃদ্ধা: সাবধান! সেটা কখনো করবেননা। তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তাঁর কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন। আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হা সুচক সায় দেওয়া, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হন।
অতপর আমি তাকে বলি, আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি? তারপর আমি চলে যাই, আর আপন কাজে লেগে যাই। কারন চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশ্রাম প্রয়োজন।
শিক্ষামূলক বা বাস্তবিক জ্ঞানের পোস্ট ও ভিডিও পেতে Shakil Sir || ইংরেজি শিখতে Alada English পেজ ফলো করুন এবং নোটিফিকেশন পেতে বা অন্যকেও জানাতে এই পোস্টটিতে রিয়াক্ট,কমেন্ট ও শেয়ার করুন।
.
সাংবাদিক: এরপর কি করেন? এক সপ্তাহ খানেক তার থেকে দূরে থাকেন, এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়?
বৃদ্ধা: সাবধান! এধরনের বদভ্যাস থেকে দূরে থাকুন।
যা দুধারী তরবারির চেয়েও মারাত্মক। স্বামী যখন আপনার সাথে আপোষ করতে চান তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। কখনো কখনো এ অবস্থা তাকে প্রচন্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে।
.
সাংবাদিক: তাহলে কি করবেন তখন?
বৃদ্ধা: দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি, নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত। এসময় তার সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি। তারপর তিনি বলেন, রাগ করেছো? আমি বলি, না।
তারপর, তার দূর্ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ ও ভালোবাসার কথা বলেন।
.
সাংবাদিক: আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?
বৃদ্ধা: অবশ্যই। কেন নয়? শান্ত থাকা অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস করব?
.
সাংবাদিক: তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?
বৃদ্ধা: আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব। আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব। আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ব্যক্তিত্ব থাকে না। যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছ, তার কাছে আবার কিসের ব্যক্তিত্ব?
মহান রব আমাদের দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের জীবনে কল্যান দান করুন। আমীন
পুরুষের জীবন অর্থবহ করার ১০ উপায়
মধ্য ত্রিশে থাকা পুরুষের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে এমন ১০টি কাজের তালিকা—
১। পরিবারসংশ্লিষ্টতা : কৈশোরে কিংবা তারুণ্যে, বয়সের জোশে ছেলেরা দিনমান বাইরেই টো টো করে সময় কাটায়। আর জীবনে একটু স্থিরতা এলে পুরুষ মানুষ সময় কাটাতে ভালোবাসে তার পরিবারের সঙ্গে। বয়স যদি ৩০ বছরের মাঝামাঝি হয়, আর মা-বাবাসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা যদি এখনো সুস্থ থাকে, তবে এটাকে স্রষ্টার বিশেষ নিয়ামত মনে করে তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটানো উচিত। তাদের যত্ন নেওয়া উচিত।
২। প্রকৃতির সংস্পর্শ :
মানুষ প্রকৃতির সন্তান, যদিও নগরজীবনের ব্যস্ততায় সে তা ভুলতে বসেছে। সময়-সুযোগ হলেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে চলে যেতে হবে।
নিজেকে রিচার্জ করতে হবে প্রকৃতির শক্তিতে।
৩। এক্সারসাইজ করা :
এক্সারসাইজ করলে শরীরে হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়। ইয়াং এজে আমরা অনেকে এক্সারসাইজ করলেও বয়স ও ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক্সারসাইজ করা বন্ধ করে দিই। মধ্য ত্রিশে এসে জিমে জয়েন করা একটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে এক্সারসাইজের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যকে প্রায়োরিটি দেয় এমন মানুষের সঙ্গে ভালো বন্ডিং হবে। জিমে জয়েন করতে না পারলেও নিয়মিত হাঁটা বা জগিং করা যায়।
শিক্ষামূলক বা বাস্তবিক জ্ঞানের পোস্ট ও ভিডিও পেতে Shakil Sir || ইংরেজি শিখতে Alada English পেজ ফলো করুন এবং নোটিফিকেশন পেতে বা অন্যকেও জানাতে এই পোস্টটিতে রিয়াক্ট,কমেন্ট ও শেয়ার করুন।
৪। প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট :
পেশাগত জীবন গুরুত্বপূর্ণ। যে যেই পেশায় আছি, সেখানে এমন একটা উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা করা যেতে পারে, যাতে সেই পেশার থ্রু কমিউনিটিকে আক্ষরিক অর্থেই ভালো কিছু সার্ভিস দিয়ে যেতে পারি। কর্মক্ষেত্রে ভ্যালু অ্যাড করতে পারি, একটা লিগ্যাসি তৈরি করতে পারি।
৫। পুরনো বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ :
পেশাগত জীবনে উন্নতির ইঁদুরদৌড়ে অংশ নিতে গিয়ে প্রায়ই আমরা আমাদের শিকড়কে ভুলে যাই। শৈশবের দিনগুলোতে যখন আমরা পেশাগতভাবে কিংবা ব্যক্তিজীবনে ততটা সফল হয়ে উঠিনি, তখন যে বন্ধুবান্ধব নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আমাকে ঘিরে রাখত সব সময়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সম্পর্কের উন্নয়ন আমাকে মানসিক প্রশান্তি এনে দেবে।
৬। পুরনো কোনো শখ পুনরুদ্ধার :
একই সঙ্গে কর্মজীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া সুর ও রংগুলো পুনরুদ্ধার করাও জীবনকে সুরেলা ও রঙিন করে তুলতে পারে। গান গাওয়া, গিটারে টুংটাং সুর তোলা, নাটকপাড়ায় গিয়ে নাটক কিংবা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, আর্ট এক্সিবিশনে ঘোরা—এ রকম যত স্বাদ-আহ্লাদ ছিল একসময়ে, এদের পুনরুজ্জীবিত করে তোলা জীবনকে নতুন করে অর্থবহ করে তুলবে।
৭। ডায়েরি লেখা :
মনে, মাথায় যেসব চিন্তা ঘোরে, তার সবই গুরুত্বপূর্ণ, অন্তত আমার নিজের কাছে। কাজেই সেগুলোকে হারাতে না দেওয়া, মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গে লিপিবদ্ধ করে ফেলা ডায়েরির পাতায়—এটাও মনের ভার কমিয়ে মনকে হালকা করতে সহায়তা করবে।
৮। ধর্মচর্চা করা :
ধর্মচর্চা মানুষকে অন্তর্মুখী করে তোলে। আরো গভীরে ঢুকে, আরো তলিয়ে জীবন নিয়ে ভাবতে সহায়তা করে। জীবনের সংকীর্ণতাগুলোকে আরো বড় পারস্পেক্টিভ থেকে দেখতে ও ডিল করতে শেখায়। জীবনকে একটা রুটিনের মধ্যে আনে।
৯। শুয়ে শুয়ে মেঘ দেখা : এ ছাড়া অবসর সময়ে ছেলেবেলার মতো বারান্দায় টান হয়ে শুয়ে কিংবা জানালার ধারে বসে আকাশের মেঘ দেখা যেতে পারে। শৈশবে আকাশে ভাসমান মেঘগুলোকে দেখে যেমন হাতি, ঘোড়া কিংবা ডাইনোসরের শেপের মনে হতো, এখন হয়তো অমন মনে হবে না। কিন্তু এ কাজের লক্ষ্য হচ্ছে নিজের শৈশবের কাছে ফিরে যাওয়া। মনের শিশুসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখা।
১০। ...
‘১০ নম্বর পয়েন্টটা অনেক ভেবেও বের করতে পারলাম না ডক্টর সাহেব,’
পেশেন্টের ডায়েরি বন্ধ করে সামনের টি টেবিলে রাখা মাত্রই তিনি বোকা বোকা একটা হাসি দিয়ে তাকালেন আমার দিকে।
‘একবসায় লিখেছি তো, শেষ দিকে এসে মাথা তেমন কাজ করছিল না। ভালোমতো ব্রেনস্টর্ম করতে পারিনি।’
‘তবু এখন কিন্তু অনেক গুছিয়ে ভাবতে পারছেন আপনি। আপনার চিন্তার ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ভাব কেটে গেছে অনেকটাই’, ক্লায়েন্ট লগবুকে আজকের সেশনের ডিটেইলসগুলো তুলে রাখতে রাখতে বলি আমি। ‘আর ১০টা পয়েন্টই হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মানুষ রাউন্ড ফিগার পছন্দ করে, তাই আমি আপনার জীবনকে অর্থবহ করে তোলে এমন ১০টা পয়েন্ট ভেবে বের করতে বলেছি। তবে এখন আপনার কাজ হবে এই নোট করা পয়েন্টগুলো ফলো করা। একে একে এদের ওপর কাজ শুরু করা। মনে রাখবেন, মনের সদিচ্ছা কিন্তু খুব সেনসিটিভ গেস্ট। একটু অবহেলা দেখলেই রাগ করে। উধাও হয়ে যায়।’
ভদ্রলোক মুখে কিছু বলেন না। ঠোঁটের কোণে এত নরম এক হাসি ঝুলিয়ে বসে থাকেন, মনে হয় যেন আমিই উনার ক্লায়েন্ট, উনিই আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
‘রাতে ঘুম হচ্ছে ঠিকঠাক?’ আমি প্রশ্ন করি।
‘বাচ্চা যদি একটা জামা সারা দিন গায়ে দিয়ে রাখে, তাহলে সেটা খোলার পর ওই জামায় ওর গায়ের গন্ধ লেগে থাকে সর্বোচ্চ দেড় দিনের মতো, ডক্টর সাহেব’, লোকটা কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর হঠাৎ কিছু মনে পড়েছে এমন ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করেন। ‘তারপর সে গন্ধ আস্তে আস্তে হালকা হতে থাকে’,
তাঁর ঠোঁটের কোণে এখনো হাসি ঝুলে আছে। দৃষ্টি কামরার জানালা দিয়ে বাইরে, দূরে কোথাও নিবদ্ধ।
‘এখন...ধরেন...ওই গন্ধটা, বুঝলেন...আমার বাচ্চার গায়ের যে ঘ্রাণ ওর কাপড়ে লেগে থাকে, ওটা দরকারি’,
আমি কলম পকেটে ঢুকিয়ে রাখি। লগবুকটা টেবিলের ওপর রেখে দিই। তারপর যতটা সম্ভব সহানুভূতি একজন পুরুষ মানুষ অন্য একজন পুরুষ মানুষের জন্য চোখে ধারণ করতে পারে, তা দৃষ্টিতে মিশিয়ে তার দিকে তাকাই।
‘এখন...কী বলব আসলে...কষ্ট লাগে, বুঝলেন...দেখা হয় না...ওই দিকের ওরা খামখেয়ালি স্বভাবের...বাচ্চাটাকে দেখতে দেয়...আবার দেয় না...অফিস থেকে ফিরে দেখি বাসাটা কবরের মতো খালি...বাচ্চাকে নিয়ে আইন-আদালত, মামলা-মোকদ্দমা কার সহ্য হয়...’
ভদ্রলোক টেনে টেনে শ্বাস নেন কয়েকবার, যেন কামরায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেই। খুকখুক করে খানিকটা কেশে নিয়ে তিনি আবারও কথা বলা শুরু করেন।
‘কী করব ডক্টর সাহেব, বলেন?’ লোকটা ধরা গলায়, কিন্তু হাসিমুখে আমার দিকে তাকান। ‘বাচ্চা তো...আমারই তো বাচ্চা...এভাবে সপ্তাহে একবার, দুবার স্রেফ চোখের দেখা দেখে থাকা তো মুশকিল। তাই...তাই অনেক ভেবে আমি একটা উপায় বের করেছি...’
লোকটার টলটলে চোখজোড়া জ্বলজ্বল করতে থাকে উৎসাহে।
‘বাজারে ছোট ছোট এয়ারটাইট প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া যায়, বুঝলেন। বাচ্চার সঙ্গে যেদিন দেখা হয়, সে সময় ওর গায়ে যে জামাটা থাকে, ওটা নিয়ে এসে যদি ও রকম একটা এয়ারটাইট প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে ভরে রাখি, আর প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ব্যাগের চেইন অল্প একটু খুলে স্রেফ একবার করে যদি ঘ্রাণ নিই ভেতরের, তবে সব মিলিয়ে প্রায় এক সপ্তাহের মতো ওই কাপড়ে আমার বাচ্চার গায়ের ঘ্রাণ ঠিকঠাক লেগে থাকে। এই করছি গত সপ্তাহ থেকে। ভালো আছি এখন বেশ। রাতে ঘুম হয় ভালো। মনে হয় বাচ্চাটা আমার পাশেই ঘুমিয়ে আছে।’
লোকটা একটু ঘুরে জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসেন। শেষ বিকেলের আলোতে ঝলসে যায় তাঁর মুখচ্ছবি। সেই উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার মাঝেও আমি দেখতে পাই, তাঁর চোখের কোল ঘেঁষে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে থাকা পানি তাঁর শার্টের বুক ভিজিয়ে দিচ্ছে।
‘এখন বেশ ভালো আছি আমি ডক্টর...সত্যি বেশ ভালো আছি, বুঝলেন...মনে হয়, সব সময় বাচ্চাটা আমার সঙ্গেই আছে...আব্বুটা আমার পাশেই আছে...’ ভদ্রলোক ফোঁপাতে থাকেন, ‘সপ্তাহের সাতটা দিনই ওর শরীরের গন্ধ আমার সঙ্গে...ভালো না? বলেন আপনি...আপনিই বলেন
বিচারের ক্ষেত্রে নারীদের ছাড় দেয় অনেকে। কখনও কোনো নারীর ফাঁ সি হতে শুনেছেন বাংলাদেশে? শুনলে জানাবেন। হয়তো হয়েছে, কিন্তু আমি জানি না। আমি আরও শুনেছি নারীদের হাতকড়া পরানোও নাকি নিষেধ। আইনজীবীরা এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন, আমি নই।
আমার মনে হচ্ছে— এ দেশে আদরের বেলায় নারীদের সমাধিকার থাকলেও শাসনের বেলায় নারীকে পুরুষের চাইতে বেশি ছাড় দেওয়া হয়। এটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বৈষম্য মনে করি।
নারীদের অনেকেই সম্মানের অপব্যবহার করে। আমার আইনজীবী বন্ধু কথায় কথায় একদিন আন-অফিশিয়ালি বলেছিলেন— দেশে যত রেইপ কেইস হয়, এর ৯৫ ভাগই ফেইক।
এবার আসি দার্শনিকতায়।
এ দেশে সাদা চামড়ার বাজার ভালো। সাদা চামড়া মূলত একটা সার্টিফিকেট। রিসিপশনিস্ট, মডেলিং, শোরুম সেলস ওম্যান— এই চাকরিগুলোতে সাদা চামড়ার সার্টিফিকেট হলেই চলে, মেধাফেধা তেমন একটা লাগে না। সাদা চামড়ার ওপর যদি হাতা কাটা ব্লাউজ পরা যায়, তাহলে তো কথাই নেই! দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়।
বেসরকারি অফিসগুলোতে অসংখ্য পুরুষের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না কেবল সাদা নারী ও বসের রসায়নের কারণে। বলছি না সব অফিসে, তবে বেশ কিছু অফিসেই এই প্রবলেম রয়েছে।
আপনার পদ ও আপনার বসের পদের মাঝখানে যদি কোনো নারীর পদ থাকে, তাহলে ওই অফিস আপনার ত্যাগ করা উচিত। কারণ ওই অফিসে আপনার প্রমোশন হবে না, যতক্ষণ না ওই নারী আপনার ওপর সন্তুষ্ট হয়। সমস্যা হলো নারী বসকে কাজ দেখিয়ে সন্তুষ্ট করা যায় না। তাদের মন পেতে হলে অফিসে আজাইরা কথা বলতে হয়। যেমন—
১) আল্লাহ আপি আজ শাড়ি পরে এসেছেন! এটা কি কাতান? আঁচলের কাজটা বেশি লাইট হয়ে গেছে, তাও মানিয়েছে।
২) আপি কি ডায়েট করেন? আমাকেও ডাক্তার করতে বলেছে।
৩) আপি, ডার্ক পার্পল লিপস্টিক কোথায় ভালো পাব? বসুন্ধরা নাকি যমুনা?
৪) আপু কতবেল ভর্তা খাবেন?
— এসব আজাইরা বিষয় নিয়া আপুর সঙ্গে আলগা খাতির করতে পারলে অফিসে আপনার উন্নতি হবে, নয়তো ডান্ডি ফট্টাশ!
প্রতিটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি— আল্লাহ, আমার ও আমার বসের মাঝখানে যেন কেন নারী বস না থাকে।
যা হোক, এই যে ছবির নারীটি, তার সাদা চামড়ার ভেতরে মেধা ও মনুষ্যত্ব পুশ করা দরকার ছিল। কিন্তু তিনি হয়তো তার সাদা চামড়া দিয়েই সমাজে চলাচলের যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছিলেন, ফলে মগজের স্বাস্থ্য বাড়েনি তার।
আমাদের পুরুষদের এখন দুটি জিনিস করতে হবে—
১) নারীকে যৌক্তিক কারণে শ্রদ্ধা করতে হবে। অযৌক্তিক ও নারী দেখলেই বিনয়ে লুটিয়ে পড়া— এই খাসলত দূর করতে হবে।
২) ধলা চামড়ার নারীদের চামড়া দেইখা সমাজে ওভার এক্সেস না দিয়া ওই নারীর জ্ঞানবুদ্ধি একটু যাচাই করে নিতে হবে।
#everyonehighlights
সম্প্রতি একজন মাওলানা রুহুল আমিন দ্বিতীয় বিয়ে করায় উনার প্রথম স্ত্রী উনাকে হ* ত্যা করে ফেলেছে, আল্লাহ উনাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক।
আপনারা নারীরা অবিবাহিত হন কিংবা বিবাহিত কখনোই নিজের স্বামীর ভাগ দিতে চান না, কখনোই না। সেখানে উনার স্ত্রী নিঃসন্তান ছিলো এবং উনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি পর্যন্ত দিয়েছে। তারপরে কেনই বা এই হ*ত্যা! আর যে আপুরা উদাহরণস্বরুপ পোস্টে করে নিজের পুরুষদের সাবধান করছো তাদের উদ্দেশ্যে বলি, ৪ টা বিয়ে করা জায়েজ যদি সামর্থ্য থাকে। যদি সে প্রথম বউয়ের সম্পুর্ণ হক আদায়ের পরে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে শরয়ী মোতাবেক সেখানে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। একাধিক বিয়ে বৈধ। এটা আপনাকে মানতে হবে। বিনা বাক্য ব্যয়ে মানতে হবে। কোনো যুক্তি-টুক্তি চলবে না। যারা একাধিক বিয়ে করে, তাদের দেখে নাক সিটকানো যাবে না। বলা যাবে না- "আরে ধুর! চরিত্র ভালো হলে কি আর দুই বিয়ে করে"! যদি বলে থাকেন, তাহলে নতুন করে কালিমা পড়ে নেন। কারণ আপনি কুফরি করেছেন। তাই এই ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। মিমস বানানোর যুগে এই হ*ত্যার ব্যাপার টাকে আমরা সহজলভ্য না করি।
বাসরঘরে তালাক দশম শ্রেনির মাদরাসার ছাত্রীর স্ত্রী হিসেবে মহিলা মাদ্রাসা আর জেনারেল বলতে কিছু নেই, যার মধ্যে দ্বীনদার বুঝদার ও সাথে সাথে তা...
-
প্রাক্তন প্রেমিকের এর ঋণ কিভাবে শোধ করা যায়? আমি কিছু দিন ধরে প্রচন্ড আত্নগ্লানিতে ভুগছি।অনেক কষ্টে আছি। নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বেঈমান না...
-
পুরুষের জীবন অর্থবহ করার ১০ উপায় মধ্য ত্রিশে থাকা পুরুষের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে এমন ১০টি কাজের তালিকা— ১। পরিবারসংশ্লিষ্টতা : কৈশোরে...
-
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করতে চাইলে আগে কমছে কম এক কোটি বার ভাবুন। এ যুগের ৯০% ডিভোর্সি নারীদের অবস্থাই সেক্যুলার/নারীবাদী/ভুস্কি মানসিকতার,এদে...


